× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
1996 standing 312 seats in metro train
google_news print-icon

মেট্রো ট্রেনে বসার আসন ৩১২, দাঁড়িয়ে ১৯৯৬

মেট্রোরেল
মেট্রোরেলের প্রতিটি কোচ তৈরি হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে। ছবি: সংগৃহীত
ছয় কোচের একটি ট্রেনে বসে এবং দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রেনের কোচের দুই পাশে লম্বালম্বি বসার আসন রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইলচেয়ার রাখার ব্যবস্থা।

মেট্রোরেলের প্রতিটি কোচ তৈরি হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে। জাপানের বিখ্যাত কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি বাংলাদেশের এমআরটি-৬ এর জন্য মোট ২৪টি ট্রেন তৈরি করছে, এগুলোর প্রতিটিতে থাকবে ছয়টি করে কোচ। এর মধ্যে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১৯টি ট্রেন।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ লাল-সবুজের রঙের ছোঁয়া রয়েছে ট্রেনের কোচগুলোতে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীর চাপ বাড়লে আগামীতে প্রতিটি ট্রেনে আর দুটি করে কোচ যোগ করা হতে পারে, সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্রেনে কোচ সংখ্যা হবে আট। বিষয়টি মাথায় রেখেই মেট্রোরেলের প্ল্যাটফর্মের নকশা তৈরি করা হয়েছে।

ট্রেনের দুই প্রান্তের দুটি কোচকে বলা হয় ট্রেইলর কার, সেখানে থাকবেন চালক। এ দুটি কোচের প্রতিটিতে ৪৮ জনের বসে এবং ৩২৬ জনের দাঁড়িয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। আর মাঝখানের চারটি কোচের প্রতিটিতে ৫৪ জন বসে এবং ৩৩৬ জন দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন। সব মিলিয়ে ছয় কোচের একটি ট্রেনে বসে এবং দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এর মধ্যে সব মিলিয়ে বসার সুযোগ পাবেন ৩১২ জন।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রেনের কোচের দুই পাশে লম্বালম্বি বসার আসন রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ট্রেনে থাকবে দুটি হুইলচেয়ার রাখার ব্যবস্থা। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত প্রতিটি কোচের দুই পাশে রয়েছে চারটি করে দরজা। জাপানি স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে মেট্রো ট্রেনে।

মেট্রো ট্রেনে বসার আসন ৩১২, দাঁড়িয়ে ১৯৯৬

দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের জন্য রয়েছে ঝুলন্ত গ্রাপ হ্যান্ডেল (হাতল)। মেট্রোরেলের প্রতিটি কোচে রয়েছে মেট্রোরেলের সব স্টেশনের ডিজিট্যাল ম্যাপ। মনিটরে যাত্রীরা দেখতে পারবেন কোন স্টেশনে তিনি পৌঁছেছেন, সামনের স্টেশন কোনটি। এছাড়া মেট্রো ট্রেনে যাত্রীদের দিকনির্দেশনা জানাতে রয়েছে সাউন্ড সিস্টেম।

জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়ামকে ২৪ সেট ট্রেন নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় ২০১৭ সালে। সব মিলিয়ে ২৪ সেট ট্রেনের দাম পড়ছে ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে সবগুলো ট্রেন বাংলাদেশে আনার পর মোট খরচ পৌঁছাবে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
National professor Professor Dr Mahbub Ullah

জাতীয় অধ্যাপক হলেন প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ

জাতীয় অধ্যাপক হলেন 
প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগের তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তিনি এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজের পছন্দের বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবেন এবং গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-কে অবহিত করবেন।

এছাড়া তিনি যে প্রতিষ্ঠান বা গবেষণা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সেখানে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও তার গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে অবহিত করবেন এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে পাঠাবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তবে এ সময় তিনি অন্য কোনো বেতনভুক্ত চাকরিতে যুক্ত হতে পারবেন না।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fake DO letter in the name of Deputy Speaker Order to take legal action

ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও পত্র, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও পত্র,
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, দাপ্তরিক প্যাড, সরকারি লোগো ও স্মারক নম্বর জাল করে একটি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) পত্র তৈরি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জাতীয় সংসদ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রচারিত ও বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা ওই ডিও পত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি এবং এর সঙ্গে জাতীয় সংসদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।

সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের নাম, সরকারি লোগো, দাপ্তরিক প্যাড বা অন্যান্য সরকারি পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা একটি গুরুতর ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা নজরে আসার পর জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের নামে কোনো ডিও বা সরকারি পত্র প্রাপ্ত হলে তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Violence against women and girls increased alarmingly

নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে

নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা 
উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে এবং এটি এখন একটি গভীর জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। গৃহ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—উভয় স্থানই নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষ্য-প্রমাণের দুর্বলতা এবং ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার সামাজিক প্রবণতা অপরাধীদের দায়মুক্তিকে উৎসাহিত করছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ সব কথা বলা হয়েছে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার ভিত্তিতে এই সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছে।

সমীক্ষায় দেখা যায়, কন্যাশিশুরা দলবদ্ধ ধর্ষণ (১৪২), আত্মহত্যা (২০৩) এবং ধর্ষণের চেষ্টা (১১৭) মামলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা হত্যা (৭৫৬), ধর্ষণ (৩৭৬) ও যৌন হয়রানির (১২৫) ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৫৩ শতাংশ এবং সহিংসতার শিকার হয়ে হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯ শতাংশ। পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গৃহিণীরা হত্যার ৫৮ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৩ শতাংশ এবং যৌতুকসংক্রান্ত সহিংসতার ৯৪ শতাংশের শিকার। এ ছাড়া শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টা (৮০ শতাংশ), আত্মহত্যা (৬৭ শতাংশ), দলবদ্ধ ধর্ষণ (৩৯ শতাংশ) এবং বাল্যবিবাহের (১০০ শতাংশ) ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, ‘সমীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব নারী—জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নারীরা সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে ছয় থেকে নয় বছর বয়সি শিশুকন্যাদের ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি হওয়া সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার ঘটনাও বাড়ছে। ফলে নারী শুধু যৌন সহিংসতার শিকারই হচ্ছেন না, তাদের জীবনও ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এটি কেবল নারীর সংকট নয়, বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার সংকট।’

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু ঘটনা প্রকাশ নয়, বরং সহিংসতার সামাজিক ও কাঠামোগত কারণও তুলে ধরা প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশে সংবেদনশীল থাকার পাশাপাশি অপরাধীদের পরিচয় ও দায়ও সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্ষণ, হত্যা ও এ ধরনের সহিংসতা ফৌজদারি অপরাধ। এসব ঘটনায় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা আইনসম্মত নয় এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ ধরনের অপরাধের বিচার অবশ্যই আদালতের মাধ্যমে হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 young Bangladeshi hostages in Libya Torture by keeping the family on video call

লিবিয়ায় জিম্মি ৬ বাংলাদেশি তরুণ পরিবারকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতন

লিবিয়ায় জিম্মি ৬ বাংলাদেশি তরুণ
পরিবারকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় তরুণ অবৈধ পথে লিবিয়ায় যাওয়ার পর প্রায় আট মাস ধরে তারা মানব পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন। মুক্তিপণের টাকা আদায়ে তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে জনপ্রতি ২৭ লাখ টাকা দাবি করছে চক্রটি।

জিম্মি হওয়া তরুণরা হলেন খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুনুর রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) এবং লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।

শাহাদাত হোসেন খিলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশিদের ভাগনে এবং মেহেদী হাসান তার শ্যালক। হারুনুর রশিদ জানান, প্রতিদিনই ছয় তরুণের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সেই ভয়াবহ দৃশ্য ভিডিও করে তাদের স্বজনদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, প্রত্যেকের জন্য ২৭ লাখ টাকা দিলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অন্যথায় হত্যা করে মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, সপ্তাহখানেক আগে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপের খবর তারা পাননি।

পরিবারগুলোর ভাষ্য, কেউ আট মাস আগে, আবার কেউ ৯ মাস আগে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। চুক্তি অনুযায়ী লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে তাদের ইতালিতে পাঠানোর কথা ছিল। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ২০ দিন আগে তাদের মাফিয়া চক্রের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, দালালদের যোগসাজশেই এই ঘটনা ঘটেছে।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখার পর সম্প্রতি ছয় তরুণকে আরেকটি মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয়। মুক্তিপণের টাকা আদায়ের উদ্দেশে প্রতিদিন নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি পরিবারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। কখনো ভিডিও কল চালু রেখে স্বজনদের সামনে নির্যাতনের ঘটনাও দেখানো হচ্ছে।

হারুনুর রশিদ বলেন, ছয় পরিবারের কারোরই নতুন করে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য নেই। আগেই ঋণ, ধারদেনা ও জমিজমা বিক্রি করে দালালদের টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন তারা চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিক ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাই সামছুল আলমের মাধ্যমে প্রায় ৯ মাস আগে ২০ লাখ টাকা নেন। একই গ্রামের মানুষ হওয়ায় তারা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু ছেলেকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ছেলের নির্যাতনের ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়ছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মানিক বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। দেশে তার হয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেন ভাই সামছুল আলম।

এদিকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সামছুল আলমসহ অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

মেহেদী হাসানের বাবা শাহ আলম জানান, ১৮ লাখ টাকা খরচ করে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সব লেনদেন হয়েছিল সামছুল আলমের মাধ্যমে। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলেকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরিবারের সুখের আশায় বিদেশে পাঠানো ছেলেকে এভাবে নির্যাতিত হতে হবে, তা কখনো ভাবেননি।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladeshi passport holders will get visa free on arrival facility in 35 countries

যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত-অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা

যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত-অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ৯৭তম স্থানে। বছরের শুরুতে এ সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল ৯৫তম স্থানে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ২১ জুলাই তাদের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সূচক প্রকাশ করে।

বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের নাগরিক আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় কতটি দেশে প্রবেশ করতে পারেন, সেটিই এই সূচকের মূল ভিত্তি।

সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২০২৫ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭। অর্থাৎ, ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুইটি ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধার গন্তব্য হারিয়েছে।

তবে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কমলেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি জুলাই মাসে তিন ধাপ উন্নত হয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম।

নতুন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম। সর্বশেষ হালনাগাদে দেশটির অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও কাতার একই কাতারে এসেছে।

বাংলাদেশের মতো উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়ে মোট ৩৫টি দেশে কোনো অগ্রিম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০টি। বাকি প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি দেশে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা পান।

যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচবক অনুসারে, বর্তমান অবস্থাানের জোরে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত সুবিধা পাবেন ১৭টি দেশ ও অঞ্চলে। এই দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য আগে থেকে কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং বিমানবন্দরে নেমেও কোনো ভিসার আবেদন করতে হবে না; সরাসরি পাসপোর্ট ও রিটার্ন টিকিট নিয়ে প্রবেশ করা যাবে। এই দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো রুয়ান্ডা, বাহামা, বার্বাডোজ, জাম্বিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, কুক আইল্যান্ডস, ভানুয়াতু, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।

এছাড়া অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাবেন আরও ১৪টি দেশে। এই দেশগুলোতে পৌঁছানোর পর সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সীমান্ত ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে সরাসরি ভিসা সংগ্রহ করতে হয় (কিছু দেশ এর জন্য নির্দিষ্ট ফি নিয়ে থাকে)। দেশগুলো হলো—ভুটান, বুরুন্ডি, মালদ্বীপ, নেপাল, কম্বোডিয়া, তিমুর-লেস্তে, কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, সিয়েরা লিওন, নিউই, সামোয়া ও টুভ্যালু।

এছাড়া ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সুবিধা পাওয়া যাবে শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, ও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস— এই চার দেশে। এ দেশগুলোতে যাওয়ার আগে অনলাইনে একটি ফ্রি বা স্বল্প খরচের ‘প্রাক-ভ্রমণ অনুমোদন’ বা ইটিএ ফরম পূরণ করে অনুমতি নিতে হয়। এটি কোনো প্রথাগত কনসুলার ভিসা নয়, তবে বোর্ডিংয়ের আগে এটি বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশের পাসপোর্টের ২০ বছরের পশ্চাৎযাত্রা

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০০৬ সূচকে বাংলাদেশে পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৬৮তম। তারপর থেকে প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে পেছাচ্ছে পাসপোর্টের মান। ২০১৫ সালে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৯৯তম। তবে এ সূচকের ইতিহাসে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সবচেয়ে নিম্ন অবস্থায় পৌঁছেছিল ২০২১ সালের জুলাইয়ে। সেবার পাসপোর্টের মান নেমে গিয়েছিল ১০৮তম অবস্থানে। তারপর থেকে অবশ্য উন্নতি হতে থাকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থানের, তা খুব ধীর গতিতে।

২০২২ সালে অবস্থান হয় ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৯৭তম স্থানে উঠে আসে। ২০২৫ সালে নেমে যায় ১০০তম অবস্থানে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উন্নতি হয়ে ৯৫তম হলেও জুলাইয়ে তা আবার ৯৭তম হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই সূচকে অন্যান্য দেশের অবস্থান

সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশযোগ্য গন্তব্য ১৮৮টি।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ১৮৫টি গন্তব্য। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সপ্তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া। নবম স্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া এবং দশম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

এবার ও একই অবস্থানে রয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুটি দেশের অবস্থান ১৬তম এবং তাদের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই ১৬৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। যুদ্ধরত ইউক্রেন রয়েছে ৩১তম এবং রাশিয়া ৪৭তম অবস্থানে। ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।

ইসরায়েল রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। দেশটির নাগরিকরা ১৬৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভিসামুক্ত গন্তব্য ৩৭টি। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব রয়েছে ৫৪তম অবস্থানে। চীন কসোভোর সঙ্গে যৌথভাবে ৬০তম এবং হাইতি ও ভিয়েতনাম রয়েছে ৮৭তম স্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান। এরপর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ৮১তম এবং ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। ভুটান রয়েছে ৮৮তম স্থানে, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম অবস্থানে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স সূচকে বাংলাদেশের ঠিক পরেই অর্থাৎ ৯৮তম স্থানে রয়েছে নেপাল। নেপালের নাগরিকরা তাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৩৪টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারবেন। অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম অবস্থানে এবং তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য ২৯টি। সিরিয়া ১০৩তম, ইরাক ১০২তম এবং আফগানিস্তান ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, যা সূচকের সর্বনিম্ন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Construction of and13 billion Chinese zone begins
বিনিয়োগের মেগা প্রজেক্ট

১.৩ বিলিয়ন ডলারের চীনা জোনের নির্মাণকাজ শুরু

১.৩ বিলিয়ন ডলারের চীনা জোনের নির্মাণকাজ শুরু ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নীরব প্রতিযোগিতার মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ কেবল প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকা নয়, বরং ভূকৌশলগত সুবিধা গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার দৃঢ় বার্তা দিল। দীর্ঘ এক দশকের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, প্রশাসনিক অচল অবস্থা ও জটিলতার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন—সিইআইজেড)। প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া এই মেগাপ্রকল্পটি কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নির্মাণ নয়; এটি চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ভরকেন্দ্র বদলে দেওয়ার মতো এক মেগা ইভেন্ট।

বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থান একে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মেরুকরণের এই যুগে আনোয়ারা ইকোনমিক জোনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান বহুগুণ শক্ত করবে।

আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটিকে চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল (বঙ্গবন্ধু টানেল) এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রিপল-কানেক্টিভিটির কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস আদান-প্রদান দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মেগাপ্রকল্প বাস্তবে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নিজেকে একটি "গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড লজিস্টিক হাব" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।২. বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) ও আঞ্চলিক প্রভাবপ্রকল্পটি চীন-বাংলাদেশ জি-টু-জি (G2G) কাঠামোর অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে চিনের সরাসরি শিল্প বিনিয়োগ ঘনীভূত হবে, যা এশীয় সরবরাহ শৃঙ্খলে (Asian Supply Chain) বাংলাদেশকে এক অপরিহার্য অংশীদার বানাবে।

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্য২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং ২০১৬ সালের জমি অধিগ্রহণ সত্ত্বেও প্রকল্পটিতে বহু বছর ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছিল। প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থায়ন বিলম্ব এবং উপযুক্ত ডেভেলপার নিয়োগের অভাবে এটি ঝুলে ছিল। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও বলিষ্ঠ কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলেই মেগাপ্রকল্পটি আজ আলোর মুখ দেখল।

দীর্ঘদিন আটকে থাকা এই প্রকল্পটি পুনরায় গতি লাভ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর। চীনের বেইজিং এবং ডালিয়ানে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথে সরকারের ফলপ্রসূ আলোচনা প্রকল্পটির পথ সুগম করে। ওই সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা স্থবির প্রকল্পে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বিশ্বখ্যাত চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেইজিংয়ের ৩০টিরও বেশি শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রাথমিক ধাপে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে।

প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-এর উপস্থিতিতে আনোয়ারার মাঠ পর্যায়ে কাজের শুভ সূচনা হয়। অর্থনৈতিক সংস্কার ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করায় সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু একটি বিশেষ শিল্প প্রকল্প নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন বিশ্বদুয়ার উন্মোচন করবে।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হকের মতে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আয়কারী তৈরি পোশাক (RMG) খাতের কাঁচামাল, ফ্যাব্রিক্স ও অ্যাকসেসরিজের সিংহভাগ চীন থেকে আমদানি করতে হয়। আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা প্রযুক্তি ও কাঁচামাল সরাসরি উৎপাদিত হলে:আমদানি ব্যয় এবং ট্রানজিট সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার একটি দৃঢ় সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের এই নতুন অধ্যায় প্রমাণ করে যে—সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সুসংগঠিত অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ভেঙে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০৩১ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ হলে এটি শুধুই একটি শিল্পাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগ, আধুনিক শিল্প এবং লজিস্টিকসের অপরিহার্য আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New to build a beautiful country Generations must lead PM

সুন্দর দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সুন্দর দেশ গড়তে নতুন 
প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নতুন প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বর্তমান প্রজন্ম সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নানা ধরনের সমস্যা থাকলেও থেমে থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রজন্ম যে পেশায় নিজেদের গড়ে তুলতে চায়, সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের শুধু নিজেদের দক্ষতা বাড়ালেই হবে না, প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং দেশের সম্পদ সংরক্ষণেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

মন্তব্য

p
উপরে